ফিলিপস কোম্পানি সম্পর্কে কিছু কথা

আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগেও আমরা ঘরে বাতি জ্বালাবার জন্য ফিলিপসের বাল্ব ব্যবহার করতাম, এমনকি গ্রামাঞ্চলেও। একটা স্লোগান ছিল বিজ্ঞাপনে, বাতির রাজা ফিলিপস। একটা সময়ে বাজারে বলা যায় এক কথাতে, অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ফিলিপসের লাইটগুলি। এখনও ফিলিপসের পন্যগুলি অনেক জনপ্রিয়, সেটা কেবল আমাদের দেশে না, বরং সারা পৃথিবীতেই।

ফিলিপস মূলত পৃথিবীর সবচে বড় ইলেক্ট্রনিক্স কোম্পানিগুলির ভেতর একটা। কম্পানিটির হেড অফিস হল্যান্ডে। বর্তমানে ফিলিপস বেশী কাজ করছে ২ টি সেক্টরে- মানুষের সাস্থ্যসেবা নিয়ে এবং লাইটিং নিয়ে। আমাদের দেশে ফিলিপস কোম্পানি যে সব পন্য বিক্রি করে, তাদের ভেতর রয়েছে ইস্ত্রি, ব্লেন্ডার, এলইডি টিভি, এয়ার পিউরিফায়ার, পুরুষ-নারীর গ্রুমিং পন্য এবং শিশুদের পরিচর্যার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন পন্য।

১৮৯১ সালে ফিলিপস তাদের যাত্রা শুরু করে হল্যান্ডের বানিজ্যিক শহর আইন্ডহোভে্নে। জেরার্ড ফিলিপস ছিলেন কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা। প্রথমদিকে কোম্পানি শুধু লাইট বাল্ব বিক্রি করতো। বর্তমানে ফিলিপসকে বলা হয় পৃথিবীর সবচে বড় লাইট প্রস্তুতকারক কোম্পানি। মানে লাইট বানানোর দিক দিয়ে ফিলিপস সবার উপরে পৃথিবীতে।

পুরুষদের জন্য ইলেকট্রিক শেভিং মেশিন অনেক জনপ্রিয়। ফিলিপস প্রথমে এই পন্য বানায় এবং বাজারে ছাড়ে। এখনও পুরুষদের গ্রুমিং পণ্যের জনপ্রিয়তায় ফিলিপস শীর্ষে রয়েছে। নারীদের চূল শুকাবার যে যন্ত্র, মানে হেয়ার ড্রাইয়ার, সেটাও ফিলিপস একচেটিয়া ভাবে বিক্রি করছে বেশ কিছু বছর ধরেই।

সিডি সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। আজ থেকে ১০-১২ বছর আগেও সিডি প্লেয়ারে সিডি ঢুকিয়ে গান শোনা ছিল অনেক ট্রেন্ডি একটা ব্যাপার। পৃথিবীর প্রথম সিডি বাজারজাত করে ফিলিপস, পাশে ছিল জাপানের আরেক বিখ্যাত কোম্পানি সনি।

ফিলিপস এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবাকে অনেক বেশী গুরুত্ব দেয় এবং তারা তাদের প্রধান যে লক্ষ্য, সেটাকে বলছে এভাবে, ” আমাদের প্রধান ফোকাস হচ্ছে মানুষের জীবনের মান উন্নয়ন এবং সেটা উপযুক্ত উদ্ভাবনের মাধ্যমে।”

ফিলিপস থেকে আমাদের শেখার বিষয় রয়েছে ৩ টি।

তারা সব সময় মানুষের কি প্রয়োজন, সেটায় সব সময় খেয়াল রেখেছে এবং সেভাবে পন্য উদ্ভাবন করেছে। এখনও তাদের প্রধান ফোকাস মানুষের জীবনের মান উন্নয়নে। আমাদেরকেও এমন ভাবে কাজ করে যেতে হবে, যাতে করে কাস্টমারের জীবনে আমাদের পন্য ভালো ভাবে কাজে লাগে।

প্রতিনিয়ত তারা নতুন ভাবে চেষ্টা করেছে একই পন্যে বৈচিত্র্য আনার জন্য। তারা লাইটিং নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছে প্রায় দেড়শ বছর আগে। এখনও তারা লাইটিং এ পৃথিবীর শীর্ষে। কিন্তু পন্যে তারা বৈচিত্র্য সৃষ্টি করেছে প্রতিনিয়ত। কাস্টমারের চাহিদার কথা ভেবে। আপনি এখন যে পন্য নিয়ে কাজ করছেন, সেটা নিয়েই আজীবন কাজ করে যেতে পারবেন। কিন্তু প্রতিনিয়ত নতুণত্ব আনার চেষ্টা করুন।

কাস্টমার কি চায়, সেটা নিয়ে ভাবুন। সব সময়। জোর করে পন্য ধরিয়ে দিলেই সেটা ব্যবসা হচ্ছে না। ব্যবসা এত সহজ না। ব্যবসা সম্পর্কে জানুন, বুঝুন এবং তারপরে কাস্টমারের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করে যান। তখনই সেটাকে উদ্যোগ বলা যাবে, যখন আপনি কাস্টমারের জীবনে কাজে লাগাতে পারছেন আপনার পন্য।

Leave a Comment

error: Content is protected !!