ব্লগিং এর মাধ্যমে কিভাবে পার্সোনাল ব্রান্ডিং করা যায়?

ব্যবসায় নিজের পরিচিতি অনেক বেশী জরুরী। আপনি কে এবং কেন আপনার থেকে কাস্টমার কিনবে, এই উত্তর নিয়ে ভাবা সবার আগে দরকার।
যখন আপনি নিজের পরিচিতি বাড়াতে চাবেন, পার্সোনাল ব্রান্ডিং করতে যাবেন, তখন আপনি নিজেকে এই প্রশ্নগুলি করবেন। তারপর সেভাবে আগাবেন।
🔹🔹আপনি কি নিয়ে বা কোন পন্য নিয়ে ব্যবসা করছেন?
কিভাবে সেই পন্য মানুষের জীবনে কাজে লাগছে, তারা কিভাবে উপকার পাচ্ছে, এই দিক গুলি ভাবতে হবে।
মানুষ তো অন্য কোন জায়গা থেকেও কিনতে পারবে, তাহলে আপনার থেকে কেন কিনবে?
শুধু মানসম্মত পন্য একমাত্র সমাধান না। মান সম্মত পন্য কিন্তু ক্রেতা একটু খুঁজলেই বের করে কিনে নিতে পারে।
তাহলে আপনার থেকে কিনতে হবে কেন?
এই বিষয় গুলি ব্রান্ডিং করতে গেলে মাথাতে রাখতে হবে আমাদের সবাইকে।

নিজের ব্রান্ডিং বা পরিচিতি বাড়ানোর মানে হচ্ছে আপনি নিজেকে এমন ভাবে তৈরি করবেন, যাতে করে আপনার পন্য বা সার্ভিসের মাধ্যমে মানুষের উপকার হয় এবং মানুষের সাথে ভালো একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। এটাই ব্রান্ডিং এর মূল উদ্দেশ্য। খুবই সরল এবং সহজ কথা।

পার্সোনাল ব্রান্ডিং আপনি অনেক ভাবেই করতে পারেন।
ফেসবুকে পেজের মাধ্যমে করতে পারেন, ফেসবুক আইডি দিয়ে প্রোফাইলে করতে পারেন, আপনি ইউটিউবে ভিডিও করেও করতে পারেন, আপনার পন্য যদি দেশের বাইরেও পরিচিত করতে চান, তাহলে ইন্সটাগ্রাম, লিঙ্কডইন এবং টুইটার, পিন্টারেস্টেও করতে পারেন।
সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম গুলি অনেক বেশী উপকারী ব্রান্ডিং এর জন্য। এর বাইরে ব্লগিং এর মাধ্যমেও আপনি নিজের পণ্যের ব্রান্ডিং করতে পারেন।

ব্লগিং হচ্ছে পার্সোনাল ব্রান্ডিং করার সেরা উপায়গুলির একটি।

আমাদের দেশে বাংলায় লিখা আগের চাইতে অনেক বেশী জনপ্রিয়।
আমাদের মত তরুনরা এখন প্রচুর পরিমানে লিখছে। বাংলাতেই।
ভবিষ্যতে বিশাল একটা বাজার হবে শুধু বাংলা ব্লগিং এর। এই সুযোগ কাজে লাগাতে এখনই নেমে পড়ার সময়।
হাতে গোনা কিছু বাংলা ব্লগ আছে দেশি পন্য নিয়ে।
আমরা যদি চাই, বাংলায় খুব ভালো করতে পারি ব্লগিং দিয়ে।
পার্সোনাল ব্রান্ডিং যেমন হবে, আপনার সেল বাড়বে, ভিজিটর বাড়বে, সবচেয়ে বড় কথা, মানুষ আপনাকে চিনবে খুব ভালো ভাবে। এই জন্য ব্লগিং কে কোন ভাবেই ছোট করে দেখবার সুযোগ নেই।

যেভাবে ব্লগিং করে পার্সোনাল ব্রান্ডিং করবেন

🔹🔹 প্রতিদিন কিছু লিখুন।
আপনার পণ্যের সাথে যায়, এমন যে কোন বিষয় নিয়ে লিখুন।
ধরেন, আপনি রান্না নিয়ে কাজ করছেন। রান্না নিয়ে আপনি যে কোন কিছু লিখতে পারবেন। কি কি?
বিভিন্ন তরকারির রেসিপি নিয়ে লিখতে পারেন ব্লগে, কোন ধরনের খাবার বাচ্চাদের জন্য ভালো, কোন টা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো, যাদের এজমা বা শ্বাসকষ্ট আছে, তাদের জন্য কি ধরনের রান্না ভালো হবে। মানে হাজার হাজার আইডিয়া আপনার সামনে পড়ে আছে। শুধু দরকার আপনার লিখে যাওয়া।
🔹🔹ধারাবাহিকতা জরুরী। আপনি একদিন অনেক লিখলেন, কিন্তু এর পড়ে ৪/৫ দিন আপনি নিখোঁজ। এভাবে না। আপনি প্রতিদিন ১০ মিনিট ই লিখুন।
মানুষের উপকারে আসে এমন কিছু নিয়ে লিখে যান।
🔹🔹প্রতিষ্ঠিত ব্লগ, ইউটিউব চ্যানেল এবং ফেসবুক পেজ গুলি দেখুন প্রতিদিন। পড়ে নিন তারা কি কি ধরনের পোস্ট দেয়। মানুষ কেন তাদের কনটেন্ট পড়ে, কেন তাদের ভিডিও এত আকর্ষণীয় হয়, সেগুলি দেখুন।
বুঝার চেষ্টা করুন। এর পর নিজের মত করে লিখুন।
🔹🔹আপনি যে পন্য নিয়ে কাজ করেন, সেই পন্য নিয়ে ক্রেতারা কি কি ধরনের সমস্যা দেখছে, সেগুলির সমাধান দিন। সমাধান আপনি যখন নিয়মিত দিতে থাকবেন, মানুষ আপনার ব্লগে এসে পড়বে। আর আপনার ব্লগে আসা মানে হচ্ছে সেল হবার সমূহ সম্ভাবনা। এর পাশাপাশি আপনার পার্সোনাল ব্রান্ডিং টা হয়ে গেল।
এখন যত বেশী আপনি লিখবেন, তত বেশী মানুষ ব্লগে আসবে, তত বেশী ক্রেতারা আপনাকে চিনবে। এভাবে একটা সময় আসবে, যখন কাজ না করলেও আপনার বিক্রি বাড়তে থাকবে। ব্লগিং এ এটা খুব ই সিম্পল। সারা বছর ভিজিটর আসে গুগল থেকে।
🔹🔹 আপনার পন্য নিয়ে যত ধরনের কনটেন্ট আছে, যত ইউটিউব ভিডিও আছে, একটা করে করে দেখুন। বুঝে বুঝে পড়তে পারলে ভালো, না হলেও জাস্ট পড়ে যান। অনেক কিছু জানবেন, অনেক। আপনার শুধু লাভ আর লাভ। আপনি একটা বিষয়ে যদি জানেন, তখনই কেবল মানুষ আপনার থেকে কিনবে।
🔹🔹 রাতারাতি ফল আশা করা যাবে না। একটা ব্লগ পরিচিত হতে ৬ মাস থেকে ১ বছরের মত লাগে। এই সময় টা আপনাকে ধৈর্য ধরে লিখে যেতে হবে। যদি করতে পারেন, ১ বছর পর আপনি হয়ে যাবেন আপনার পন্য নিয়ে খুব পরিচিত মুখ। যারাই দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করছেন ব্যবসা নিয়ে, তারা ব্লগিং কে পার্সোনাল ব্রান্ডিং এর জন্য খুব সিরিয়াসলি নিন। এতে কোন লস নেই, ভবিষ্যৎ অনেক উজ্জ্বল হবে, যদি আপনি করতে পারেন।

Leave a Comment

error: Content is protected !!